বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন

বিশেষ বিজ্ঞপ্তি
জাতীয় সাংবাদিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন বাগেরহাট জেলা কমিটির পক্ষ থেকে সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি’র নেতার হামলায় মা ও ছেলে মারাত্মক জখম বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা খেলার সরঞ্জাম বিতরণ রাজনগরে চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ শাহিনুর রহমান পলাশের মোটরসাইকেল গণসংযোগ রামপালে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ৩ বছরের জোবায়ের, চিকিৎসায় প্রয়োজন ৩ লাখ টাকা রামপালে জমি দখল চেষ্টা ও মামলা করে হায়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন জাতীয় ইমাম ও খতিব সংস্থার মতবিনিময় সভাকে ঘিরে জেলা আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুর রহমানের ব্যাপক প্রস্তুতি ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে নববী আদর্শ বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। বাগেরহাটের মতবিনিময় সভায় বক্তারা রাখালগাছির কৃতি সন্তান হাবিব জেলা ছাত্রদলের সিনি: যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুকি মোকাবেলায় উপকূলীয় অঞ্চলকে সুরক্ষিত রাখতে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হলেন বাগেরহাটের কৃতি সন্তান রবি
ফকিরহাটের ঐতিহ্যবাহী টাউন নওয়াপাড়া পান বাজার এখন বহুবিধ সমস্যায় জজরিত

ফকিরহাটের ঐতিহ্যবাহী টাউন নওয়াপাড়া পান বাজার এখন বহুবিধ সমস্যায় জজরিত

পি কে অলোক,নিজস্ব প্রতিবেদক
বাগেরহাটের ফকিরহাটের ঐতিহ্যবাহী টাউন নওয়াপাড়া পান বাজারের সকল চান্দিনা ভেঙ্গে চুরে তা এখন ব্যাবহারের সম্পূর্ণ অনুউপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ ২০বছর যাবৎ বাজারটির কোন উন্নয়ন না হওয়ায় চান্দিনার মধ্যে কোন ক্রেতা বিক্রেতা ক্রয় বিক্রয় করতে পারছেন না। এ অবস্থায় বাজারের পুরানো দিনের যে ঐতিহ্য তা এখন হারাতে বসেছে। সরকার বছরে প্রায় কোটি টাকার ইজারা প্রদান করলেও বাজারটি সংস্কারে তা ব্যায় করা হচ্ছেনা। ফলে বাজারে আগত ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে পড়তে হচ্ছে সীমাহীন সমস্যায়। অতিদ্রæত দুইটি বাজারের সকল চান্দিনা মেরামত সহ বাজারটি উন্নয়ন করার জন্য স্থানীয় সচেতন মহল জোর দাবী করেছেন। জানা গেছে,বাগেরহাটের সর্ববৃহৎ টাউন নওয়াপাড়া (ঘোষের-হাট) পান বাজারটি জেলা শ্রেষ্ট পান বাজার হিসাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে এর সুপরিচিতি রয়েছে। তৎকালিন জমিদার শৈলেন্দ্রনাথ ঘোষ এই বাজরটি স্থাপন করেন। সেই সময়ে বাজারটির নাম ছিল টাউন নওয়াপাড়া ঘোষের হাট। বর্তমানে এটির নাম করণ করা হয়েছে টাউন নওয়াপাড়া পানের হাট। বাগেরহাট পিরোজপুর নাজিরপুর বিষ্ণুপুর যাত্রাপুর কার্ত্তিকদিয়া মানসা-বাহিরদিয়া পাগলা মাদারীপুর টেকেরহাট বাগেরহাট সদর রামপাল মংলা ও বটিয়াঘাটা সহ দুুরদুরান্ত থেকে শতশত পানচাষি ও ক্রেতারা এই পান বাজারে পান ক্রয় বিক্রয় করতে আসেন। সেই হিসাবে বাজারটির সুপরিচিতি চট্রগ্রাম ও রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত রয়েছে। স্থানীয়রা বলেছেন, এই বাজারটি মুলত দুই ভাগে বিভক্ত। বকুলতলায় রাস্তার উপর যেখানে পান ক্রয় বিক্রয় করা হয়, সেটি পান বাজার এবং রাস্তার অপর পার্শ্বে যেখানে কাঁচামালামাল তরিতরকারি ও মাছ মাংশ অন্যান্য মালামাল বিক্রয় করা হয় সেটিকে কাঁচা বাজার হিসাবে পরিচিত রয়েছে। পান বাজারে পান ক্রয় বিক্রয়ের জন্য ৪টি চান্দিনা রয়েছে। এই চারটি চান্দিনার মধ্যে ১টিতে বস্তিবাসি ও অন্যটি ভেঙ্গে মাটির সাথে মিশে যাওয়ায় জনৈক ব্যাক্তির তার পোতার উপর ছোট্ট একটি ঝুপড়ি ঘর বেধে কোন রকমের চা’পানের দোকান করে ব্যাবসা পরিচালনা করছে। অন্য যে দুইটি চান্দিনা রয়েছে, তার উপরের টিনের ছাউনী ঝাঝরা ও চালের বাতা আড়া এবং পিলার সিমেন্ট হতে খসেখসে পড়ছে। শুধু তাই নয়, বড় যে চান্দিনাটি রয়েছে, সেই চান্দিনার একটি অংশ নীল সরবর দিঘির মধ্যে চলে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে দাড়িয়ে রয়েছে। যে কোন মুহুত্বে চান্দিনাটি ভেঙ্গে পুকুরের মধ্যে চলে যাওয়ার আশাংখা রয়েছে। এছাড়া এখানে কোন গভীর বা অগভীর নলকুপ নাই। একমাত্র পাবলিক টয়লেট তা ভেঙ্গেচুরে ব্যাবহারের অনুউপযোগী। এই বাজারের বেশ কিছু সরকারী জায়গা ভুমিহীনরা দখল করে সেখানে বসবাস করছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে দখলকারীদের মধ্যে হতে ৫জনকে পিলজংগ রোনখোলায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু পল্লী-১ (আশ্রয়ন প্রকল্প) ঘর দিলেও সেখানে তারা যাচ্ছেনা। বাকিরা বাজারের জায়গায় ঝুপড়ি ঘর বেধে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। অপরদিকে রাস্তার অপরপ্রান্তে অবস্থিত কাঁচা বাজারটির অবস্থা ঐ একই ধরনের। ঐ বাজারের তিনটি চান্দিনা ভয়াবহ অবস্থায় দাড়িয়ে রয়েছে। এর টিন সেড গুলিতে ঝাঝরা হয়ে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যে একটু বৃষ্টি হলেই তা বাইরে পড়ার আগেই চান্দিনায় পড়ে ভিজে দাড়াবার স্থান টুকু থাকছেনা। ৩টি চান্দিনার ১টি চান্দিনায় কিছু বিক্রেতা ঝুকি নিয়ে মাছ ক্রয় বিক্রয় করলেও বাকি দুইটি ব্যাবহারের অনুউপযোগী। এর ১টি পরিত্যাক্ত থাকায় জনৈক ব্যাক্তি সেখানে গাড়ী রাখার গ্যারেজ বানিয়েছেন। এবং অপরটি সম্পূর্ণ পরিত্যাক্ত। এই বাজারে বেশ কিছু সরকারী জায়গা অবৈধ দখলকারীরা নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছেন। যে করনে বাজারটি সংকুচিত হয়ে অনেক দোকানদার রাস্তার পার্শ্বে (খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের পার্শ্বে) ঝুকি নিয়ে ক্রয় বিক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। সব মিলে নানাবিধ সমস্যার কারনে এই টাউন নওয়াপাড়া পান বাজার (ঘোষের-হাট) এখন তার পুরাতন ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য সচেতন মহল উর্দ্ধতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায়..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২০ – ২০২৫, www.chulkati24.com

কারিগরি সহায়তায়ঃ-SB Computers